করিমগঞ্জের জলাবদ্ধতা ও ভাঙা রাস্তা: সাধারণ মানুষের কষ্ট দূর করতে বড় পদক্ষেপ!
![]() |
| NHIDCL অফিসারের সাথে সাক্ষাত |
বৈঠকে বিধায়ক মালুয়া-কান্দিগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা বা জল জমে থাকার সমস্যাটি বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনে যে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে, তার ফলেই এলাকার স্বাভাবিক জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর পরিণতিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জল জমে যাচ্ছে এবং আশেপাশের অনেক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছাচ্ছে।
বিধায়ক স্পষ্ট করে বলেছেন যে এই জলাবদ্ধতার কারণে:
কৃষিকাজ: চাষবাসের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা:রাস্তাঘাট জলে ডুবে থাকায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
দৈনন্দিন জীবন:সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য জোরালো আবেদন জানান।
জলাবদ্ধতার পাশাপাশি করিমগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের শোচনীয় অবস্থাও এই বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কোনো সংস্কার বা মেরামতের কাজ না হওয়ায় সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকরা প্রতিদিন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
বিধায়ক জানতে চান নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি কতদূর? একই সাথে তিনি দাবি করেন, যতদিন না নতুন রাস্তার কাজ পুরোপুরি শুরু হচ্ছে, ততদিন অন্তত জরুরি ভিত্তিতে এই বড় গর্তগুলো ভরাট করে রাস্তাটিকে যাতায়াতের উপযোগী করা হোক।
এই আলোচনার পর এনএইচআইডিসিএল-এর রিজিওনাল ম্যানেজার কিষান জাম্বুলকর বিধায়ককে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।তিনি জানান:
১. মালুয়া-কান্দিগ্রাম এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২. করিমগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক সংস্কারের জন্য আগামী ১৬ জুন টেন্ডার আহ্বান করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুত গতিতে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
বিশেষ নজর: বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ শুধুমাত্র কাজ শুরু করার ওপর জোর দেননি, বরং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য একটি 'মনিটরিং টিম' বা নজরদারি দল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যা না ঘটে।
বিধায়কের এই অক্লান্ত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদাত আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিধায়ক নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
এই বৈঠকের পর করিমগঞ্জবাসীর মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়ন করে। উত্তর করিমগঞ্জের সমস্ত সাধারণ মানুষের চোখ এখন সেই দিকেই আটকে রয়েছে।

No comments: