"মা যদি ১ দিনও বাঁচে তাতেই আমি খুশি"—মায়ের জন্য সন্তানের অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ!

মা যদি ১ দিনও বাঁচে তাতেই আমি খুশি"—মায়ের জন্য সন্তানের অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগ!

 

আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি: মায়ের ত্যাগ নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু সন্তানের পক্ষ থেকে মায়ের জন্য এমন আত্মত্যাগ? এমন ঘটনা সচরাচর উপন্যাসেও দেখা যায় না। আজ আপনাদের এমন এক যুবকের কথা শোনাব, যিনি প্রমাণ করেছেন—মায়ের জন্য ভালোবাসা কোনো সীমা মানে না। তিনি আমাদের সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, জাকারিয়া আহমেদ পান্না।
JAKARIA AHMED PANNA

ঘটনাটি ২০১২ সালের। জাকারিয়ার মা তখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিলেন, তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো। এমনকি কিডনি বদলালেও বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ যে কেউ হয়তো হাল ছেড়ে দিত, কিন্তু জাকারিয়া দমে যাননি।

জাকারিয়া আহমেদ পান্নার এই মানবিক গুণাবলি ও ত্যাগের মানসিকতা হয়তো তাঁর রক্তেই মিশে আছে। তিনি কেবল একজন সাধারণ যুবক নন, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর বাবা ছিলেন বদরপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দুইবারের জনপ্রিয় এমএলএ (MLA) মরহুম জামাল উদ্দিন আহমেদ।




জাকারিয়া তখন সবেমাত্র নতুন সংসার শুরু করেছেন। কিন্তু তাঁর কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আশ্রয় ছিল মায়ের আঁচল। নিজের স্ত্রীকে পর্যন্ত কিছু না জানিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন—নিজের একটি কিডনি তিনি মাকে দেবেন।

চিকিৎসকরা যখন তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে, এতে খুব একটা লাভ নাও হতে পারে, তখন জাকারিয়া এক অবিস্মরণীয় কথা বলেছিলেন:

আমার কিডনি দিয়ে যদি আমার মা মাত্র একদিনের জন্যও বেঁচে থাকেন, আমি সেই একদিনের জন্যই আমার কিডনি দিতে চাই।"

 ছেলের এই অদম্য ইচ্ছার কাছে চিকিৎসকরা হার মানতে বাধ্য হন। অস্ত্রোপচার সফল হয়। মায়ের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসার টানেই হয়তো তাঁর মা আরও কয়েক মাস পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন। যদিও পরে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান, কিন্তু জাকারিয়া যা রেখে গেছেন তা হলো এক নিঃস্বার্থ ত্যাগের নজির।

আমাদের জন্য শিক্ষা

আজকের বস্তুবাদী যুগে যেখানে বৃদ্ধ বাবা-মাকে অনেকেই বোঝা মনে করেন, সেখানে জাকারিয়া আহমেদ পান্না আমাদের মনে করিয়ে দিলেন—মায়ের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকা উচিত নয়। নিজের শরীরের অঙ্গ বিয়োগ করেও তিনি যেন পূর্ণতা পেয়েছেন মায়ের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালনে।

জাকারিয়া আহমেদ পান্নার এই কাহিনী কেবল একটি সংবাদ নয়, বরং এটি আমাদের ক্ষয়িষ্ণু সমাজের জন্য এক জীবন্ত শিক্ষা। ভালোবাসা মানে যে কেবল আবেগীয় শব্দ নয়, বরং বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা—জাকারিয়া তা নিজের শরীর দিয়ে প্রমাণ করেছেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মায়ের ১টি দিন বাড়াতে চাওয়া এই যুবক আমাদের শিখিয়েছেন সম্পর্কের গভীরতা কতটুকু হতে পারে।

​যে সন্তান জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি এতটা সংবেদনশীল এবং ত্যাগী হতে পারেন, জনসেবার ময়দানে তাঁর দায়বদ্ধতা যে অনন্য হবে—তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যার হৃদয়ে নিজের পরিবারের জন্য এমন অকৃত্রিম দয়া ও ভালোবাসা থাকে, সমষ্টির জনসাধারণের কল্যাণে তিনি যে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন, এই প্রতিবেদনটিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা, পরম করুণাময় এই ত্যাগী ও সাহসী মানুষকে সুস্থ রাখুন এবং আর্তমানবতার সেবায় তাঁর এই যাত্রা চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকুক। তাঁর এই জীবনগাথা প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ে আলোকবর্তিকা হয়ে বেঁচে থাকবে যুগ যুগান্তর।

JAKARIA AHMED PANNA


আপনার মতামত জানান:

মায়ের প্রতি সন্তানের এই ভালোবাসা নিয়ে আপনার অনুভূতি কী? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান। আর এমন অনুপ্রেরণামূলক গল্প সবার সাথে শেয়ার করুন।

অসমে ভোটের দামামা! জেনে নিন নির্বাচনের তারিখ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শিক্ষার পর এবার চিকিৎসা:খান স্যার হাসপাতাল

No comments:

ইরান আর আমেরিকা : একদিন যুদ্ধবিরতি, পরদিনই আবার লড়াই—আসলে কী চলছে এদের মধ্যে?

ইরান আর আমেরিকা : একদিন যুদ্ধবিরতি, পরদিনই আবার লড়াই—আসলে কী চলছে এদের মধ্যে? আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি : খবরের কাগজ খুললে বা মোবাইলের ...

Powered by Blogger.