আজ কি আরও বাড়বে জ্বালানির দাম?জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি আবেদন! 📢
আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি: বর্তমান সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী যুদ্ধাবস্থা বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও ভারত সরাসরি এই যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তবুও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে আমাদের দেশের ওপর এর প্রভাব পড়বে প্রবল। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে ভারতের অধিকাংশ খনিজ তেল আমদানি হয়। যুদ্ধের কারণে এই পথ অবরুদ্ধ বা অনিরাপদ হয়ে পড়লে দেশে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয় করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক ব্যবহারের বদলে আমাদের যতটা সম্ভব মেট্রো, বাস এবং অন্যান্য গণপরিবহন (Public Transport) ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও তিনি 'কার-পুলিং' বা একই গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একাধিক ব্যক্তি মিলে একটি গাড়ি ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছেন। বড় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে তিনি সড়কপথের বদলে রেলওয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ডিজেলের খরচ কমানো যায়।
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে—ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে বাসে বা মেট্রোতে যাতায়াত করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে? এর দুটি দিক রয়েছে:
১. ব্যক্তিগত খরচ সাশ্রয়: নিজের বাইক বা গাড়িতে প্রতিদিন যাতায়াত করলে যে পরিমাণ পেট্রোল খরচ হয়, সেই তুলনায় বাস বা মেট্রোর মাসিক খরচ অনেক কম। দীর্ঘমেয়াদে এটি একজন সাধারণ মানুষের অনেকটা টাকা বাঁচাতে পারে।
২. পরিবেশ ও ট্রাফিক: যত বেশি মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করবে, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা তত কমবে। এর ফলে ট্রাফিক জ্যাম যেমন কমবে, তেমনি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পেয়ে পরিবেশের উন্নতি ঘটবে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ভারতের অনেক এলাকায় এখনও গণপরিবহন ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। সময়মতো বাস না পাওয়া বা ভিড়ের কারণে অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য হন। তাই সরকারের আবেদনের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানির দাম শুধু গাড়ি চালানোর খরচের সাথে যুক্ত নয়। যখন ডিজেলের দাম বাড়ে, তখন ট্রাক বা লরির ভাড়াও বেড়ে যায়। এর ফলে চাল, ডাল, সবজি থেকে শুরু করে সমস্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাজারে হু হু করে বাড়ে। তাই প্রধানমন্ত্রী যখন জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলেন, তখন তা পরোক্ষভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেরই একটি বার্তা।
জ্বালানি সাশ্রয় শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয়, আমাদের সচেতনতাও এখানে জরুরি। আমরা ছোটখাটো কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারি:
- খুব কাছের কোনো গন্তব্যে হেঁটে বা সাইকেলে যাওয়ার চেষ্টা করা।
- সম্ভব হলে অফিসের কলিগদের সাথে গাড়ি শেয়ার (Car-pooling) করা।
- ট্রাফিক সিগন্যালে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ রাখা।

No comments: