কাছাড়ের বরখলায় ধসে পড়ল ফুটব্রিজ, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেন......?
আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি : রবিবার গভীর রাতে কাছাড় জেলার বরখলায় রংঘর–ভাঙ্গারপার সংযোগকারী হারাং নদীর উপর নির্মিত একটি ফুটব্রিজ হঠাৎ ধসে পড়ে। সেতুটি ভেঙে পড়ার সময় তার উপর দিয়ে পারাপার করছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। আচমকাই সেতু ভেঙে পড়তেই তারা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কোনোমতে প্রাণ রক্ষা করেন এবং পরে সাঁতরে নিরাপদে উঠে আসেন।
![]() |
| তৈরি করা ফটো PICSART দিয়ে |
উল্লেখ্য, এই বিপর্যয়ের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই সেতুটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন সম্প্রচার করেছিল। সতর্কবার্তার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবে পরিণত হলো।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি বাইক, অটো এবং ছোট চারচাকা যানবাহনও চলাচল করত এই ফুটব্রিজের উপর দিয়ে।
![]() |
| ফাইল ফটো |
কাছাড় জেলার বরখলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রংঘর ও ভাঙ্গারপার সংযোগকারী সেই অতি পরিচিত ফুটব্রিজটি আজ কেবল ধ্বংসস্তূপ। রবিবার গভীর রাতের সেই দৃশ্যটি ছিল শিউরে ওঠার মতো। যখন চারদিক নিস্তব্ধ, তখন হঠাৎ এক বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ সেতুটি। ব্রিজের ওপর থাকা পথচারীদের কাছে তখন বাঁচার একমাত্র পথ ছিল নিচে বয়ে চলা হারাং নদী। অন্ধকারে প্রাণের তাগিদে উত্তাল নদীতে ঝাঁপ দেন তারা। বরাত জোরে প্রাণহানি না ঘটলেও, এই ঘটনা প্রশাসনের গাফিলতিকে আরও একবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
![]() |
| ফাইল ফটো |
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে সংবাদমাধ্যমে এই সেতুর ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল যে কোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙেনি। সেই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করার মাসুল আজ দিতে হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, "আমরা বারবার বলেছি, চিঠি দিয়েছি, কিন্তু প্রশাসন কেবল আশ্বাসই দিয়ে গেছে। আজ যদি কারো প্রাণ যেত, তার দায় কে নিত?"
এই সেতুটি ছিল রংঘর গ্রামের মানুষের লাইফলাইন। এটি ভেঙে পড়ায় বর্তমানে প্রায় ৫,০০০ মানুষ পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখন সেই সব জায়গায় পৌঁছানোর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই।
বিশেষ করে সংকটে পড়েছে:
- স্কুল পড়ুয়ারা: প্রতিদিন শয়ে শয়ে ছাত্রছাত্রী এই সেতু পার হয়ে স্কুলে যেত। ইতিপূর্বেও জরাজীর্ণ অবস্থার জন্য সেতু থেকে পড়ে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছে। এখন ব্রিজটি না থাকায় তাদের পড়াশোনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
- রোগীরা: এলাকায় কোনো স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা তৈরি হলে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই।
- ব্যবসায়ী ও দিনমজুর: যাতায়াত বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।



No comments: