২৮ নয় ৩০ দিনের রিচার্জ চাই! সংসদে টেলিকম কোম্পানিদের ‘গেম’ ফাঁস করলেন রাঘব চাড্ডা
![]() |
| 11th March 2026,RAGHAV CHADHA |
বর্তমানে মোবাইল রিচার্জের দাম আকাশছোঁয়া। তার ওপর ২৮ দিনের ভ্যালিডিটি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়েই সংসদের উচ্চকক্ষে (রাজ্যসভা) সরব হলেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি তুলেছেন যে, রিচার্জের মেয়াদ ২৮ দিনের বদলে পূর্ণ ৩০ দিন করতে হবে।
রাঘব চাড্ডার প্রশ্ন ,কেন ১২ মাসে ১৩ রিচার্জ?
রাঘব চাড্ডা সংসদে অংকের হিসেব দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে, কীভাবে টেলিকম কোম্পানিগুলো সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।
২৮ দিনের ফাঁদ: সাধারণত এক মাস মানে ৩০ বা ৩১ দিন। কিন্তু কোম্পানিগুলো রিচার্জ দেয় ২৮ দিনের।
অতিরিক্ত ১ মাস: প্রতি মাসে যে ২ বা ৩ দিন করে বেঁচে যাচ্ছে, তা বছরের শেষে যোগ করলে দেখা যায় একজন গ্রাহককে ১২ মাসের বদলে বছরে ১৩ বার রিচার্জ করতে হচ্ছে।
কোম্পানির লাভ: এই অতিরিক্ত ১ মাসের রিচার্জের মাধ্যমে টেলিকম কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা মুনাফা লুটে নিচ্ছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি বোঝা।
মোবাইল ট্যারিফ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
সংসদে বক্তব্য রাখার সময় তিনি সাম্প্রতিক রিচার্জের দাম বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে মোবাইল ট্যারিফ প্রায় ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টারনেট এবং কলিং এখন বিলাসিতা নয়, বরং মানুষের মৌলিক প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। এমন অবস্থায় কোম্পানিগুলোর এই ‘মনোপলি’ বা একাধিপত্য বন্ধ হওয়া জরুরি।
রাঘব চাড্ডার প্রধান দাবিগুলো:
১. পূর্ণ মাস ভ্যালিডিটি: প্রতিটি মাসিক রিচার্জের মেয়াদ বাধ্যতামূলকভাবে ৩০ দিন করতে হবে।
২. ট্যারিফ নিয়ন্ত্রণ: ট্রাই (TRAI)-কে মোবাইল রিচার্জের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে যাতে কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে না পারে।
৩. গ্রাহক স্বার্থ রক্ষা: সস্তা ডেটা এবং কলিং পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে।
সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। যদি সরকার এবং ট্রাই (TRAI) এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেয়, তবে কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহক বছরে অন্তত এক মাসের অতিরিক্ত রিচার্জের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
আপনার কি মনে হয়? ২৮ দিনের রিচার্জ কি সত্যিই সাধারণ মানুষের ওপর অবিচার? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।

No comments: