বেঙ্গালুরুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা!কোমায় থাকা গুলজারের বাঁচার আকুতি!বাঁচতে চায় গুলজার: সাহায্যের আবেদন।
ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধেছিলেন মা-বাবা। পরিবারের অভাব ঘোচাতে সুদূর ব্যাঙ্গালুরুতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ১৮ বছরের টগবগে তরুণ গুলজার হোসেন। পেশায় ছিলেন ডেলিভারি বয়। কিন্তু এক নিমেষেই সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেল এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়।
আজ গুলজার কোনো চঞ্চল যুবক নন, বরং নিথর দেহে বিছানায় শয্যাশায়ী। দীর্ঘ এক মাস যমে-মানুষে টানাটানির পর আজ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
![]() |
| গুলজার হোসেন |
অভিশপ্ত সেই দিনটি
পূর্ব নিলাম বাজার বালিয়া এলাকার এই যুবক প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন গ্রাহকের কাছে ডেলিভারি পৌঁছে দিতে। কিন্তু মাঝপথেই ঘাতক একটি দ্রুতগতির গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে তার স্কুটিতে। মুহূর্তের মধ্যে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন গুলজার। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় প্রাণটুকু বাঁচলেও, জ্ঞান ফেরেনি তার।
মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় 'কোমা'
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলজারের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে 'কোমা' পর্যায়ে রয়েছেন। শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সেভাবে সাড়া দিচ্ছে না, কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ব্যয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাকে ব্যাঙ্গালুরু থেকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
নিঃস্ব পরিবার, আকাশছোঁয়া খরচ
ছেলের চিকিৎসার পেছনে এই দরিদ্র পরিবারটি ইতিমত্যে ১১ থেকে ১২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ফেলেছে। জমি-জমা, জমানো পুঁজি—সবই আজ শেষ। কিন্তু গুলজারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা এবং আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"আমার ছেলেটা কথা বলতে পারছে না, চোখে তাকিয়ে থাকে কিন্তু আমাদের চিনতে পারে না। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি, ওকে কি আর ফিরে পাবো না?" > — কান্নায় ভেঙে পড়া গুলজারের এক নিকটাত্মীয়।
আপনার সামান্য দান বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ
প্রিয় পাঠক, আমরা কি পারি না এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে? আমাদের সামান্য আর্থিক সাহায্য হয়তো গুলজারের নিথর দেহে আবার প্রাণের সঞ্চার করতে পারে। ১৮ বছরের এই তরুণের সোনালী ভবিষ্যৎ এভাবে থেমে যেতে পারে না।
![]() |
আসুন, আমরা যে যার সাধ্যমতো এগিয়ে আসি। আপনার একটি শেয়ার বা সামান্য অনুদান গুলজারকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার মায়ের কোলে।


No comments: