হযরত মুহাম্মদ কে নিয়ে চরম অবমাননা!Hiren Hindu Axom ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে FIR! আর কি পদক্ষেপ নিল জমিয়ত উলামা ?

সামাজিক মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদকে অবমাননাকর পোস্ট: ​"Hiren Hindu Axom" ফেসবুক পেজের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? জমিয়ত উলামার FIR-এর পর কী ঘটবে অসমে?

আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ):সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে অসমের বরাক উপত্যকা। 

ইসলামের পবিত্রতম ব্যক্তিত্ব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় একটি প্রথম তথ্য বিবরণী বা এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ই জুন, ২০২৬ তারিখে করিমগঞ্জ জেলা জমিয়ত উলামার পক্ষ থেকে এই লিখিত অভিযোগটি পেশ করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (আনুমানিক ৩ থেকে ৬ জুনের মধ্যে) "Hiren Hindu Axom" (যা "Hiren Hindu Assam" নামেও পরিচিত) নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হযরত মুহাম্মদ-এর প্রতি চরম কুরুচিপূর্ণ ও গালিগালাজপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। 

Hiren Hindu Axom- করা পোস্ট

বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমগ্র শ্রীভূমি জেলা (পূর্বতন করিমগঞ্জ) এবং বরাক উপত্যকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক আঘাতের সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে করিমগঞ্জ জেলা জমিয়ত উলামার সভাপতি মাওলানা ফুরকান আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমেদ যৌথভাবে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (Officer-in-Charge) কাছে একটি লিখিত এজাহার জমা দেন।

FIR কপি 

জমিয়ত উলামার পক্ষ থেকে দায়ের করা এই এজাহারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরণের আপত্তিকর পোস্ট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সমাজে বসবাসকারী হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা এবং রাজ্যে একটি বড়সড় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোই ছিল এই পেজ পরিচালনাকারীদের মূল লক্ষ্য।

অভিযোগকারীরা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (BNS) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের (IT Act) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করার দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলি হলো:

 BNS-এর ধারা ১৯৬: বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা প্রচারের অপরাধ।

 BNS-এর ধারা ২৯৯: কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা।

 BNS-এর ধারা ৩০২: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ উচ্চারণ বা মন্তব্য করা।

 তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৭: ডিজিটাল মাধ্যমে আপত্তিকর ও অশালীন উপাদান ছড়ানো।

রিপোর্টে জানা গেছে, এই একই ফেসবুক পেজ এবং এর সাথে জড়িত 'রাতুল কলিতা' নামক এক ব্যক্তি ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও উজান অসমের শিবসাগর সদর থানায় একই ধরণের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য মামলা দায়ের করেছিল 'আপার আসাম মুসলিম ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল'। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে, এই চক্রটি ধারাবাহিকভাবে রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জমিয়ত উলামার নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তাঁরা উক্ত বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট এবং ডিজিটাল লিঙ্কসহ যাবতীয় প্রমাণাদি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। এই অভিযোগের অনুলিপি শ্রীভূমির এস.এস.পি. (SSP) এবং অসমের ডি.জি.পি. (DGP)-র দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

জমিয়ত উলামার নেতৃবৃন্দ

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, এই ধরণের উস্কানিকে হালকাভাবে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং অঞ্চলে বড়সড় অশান্তি দেখা দিতে পারে। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পুলিশ প্রশাসন যাতে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে, সেই দাবি জোরালো করা হয়েছে।

বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে খতিয়ে দেখছে এবং সাইবার সেলের মাধ্যমে পেজটির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এই স্পর্শকাতর সময়ে এলাকার সচেতন মহল সর্বস্তরের মানুষকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে

 বিউরো রিপোর্ট: আমার সোনার কালিগঞ্জ 

No comments:

চোখ কপালে তোলা দৃশ্য: গাড়ি থেকে বের হলো নগদ ৪০ লক্ষ টাকা!

গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার! কমলপুরে আটক ৫ যুবক আমার সোনার কালিগঞ্জ : আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, সাধারণ একটি নাকা চেকিং ...

Powered by Blogger.