ভাগা বাজারে ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনা আহত ৪- সংকটজনক শারীরিকভাবে অক্ষম এক শিশু
আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি:- আজ আবার এক ভয়ংকর দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল ধলাইর ভাগা বাজার এলাকা। মুহূর্তের অসতর্কতায় রক্তে রঞ্জিত হলো শিলচর–আইজল জাতীয় সড়ক।
![]() |
| ১৬-০৪-২০২৬ , ঘটনাস্থলের ফটো |
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩০৬ নং শিলচর–আইজল জাতীয় সড়কের অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা ভাগা বাজারের আসাম গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্কের ঠিক সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় একটি পেট্রোল চালিত অটোরিকশা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ভাগা বাজারের দিকে আসছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি ডিজেল চালিত অটোরিকশা কোনো সংকেত না দিয়েই আচমকা মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে।
গতির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, পেট্রোল চালিত অটোরিকশাটির চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে দুটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে পেট্রোল চালিত অটোরিকশাটি কাগজের মতো দুমড়েমুচড়ে যায়।
এই দুর্ঘটনায় মোট ৪ জন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:
- ২ জন মহিলা
- ২ জন শিশু
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আহতদের মধ্যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে, যার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার ভেতর থেকে আহতদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এবং পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরাই প্রাথমিক উদ্ধারকার্য শুরু করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কালক্ষেপণ না করে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী ধলাই ক্ষুদ্র প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দেখা যায়, আহতদের জখম অত্যন্ত গভীর এবং তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁদের শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (SMCH) স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে ধলাই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত অটোরিকশা দুটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং যানজটমুক্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। জানা গেছে, আহতরা সকলেই সোনাইর সোনাবাড়িঘাট এলাকার বাসিন্দা। তবে এখনো পর্যন্ত তাঁদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ভাগা বাজারের এই দুর্ঘটনা আবারও কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন আমাদের সামনে তুলে ধরেছে:
- দ্রুতগতি কি জীবনের চেয়েও দামি?
- জাতীয় সড়কে অটোরিকশার মতো হালকা যানবাহনের অতিরিক্ত গতি প্রায়শই এই ধরণের দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- ট্রাফিক নিয়মের তোয়াক্কা না করা:
- বিনা সংকেতে বা হঠাৎ মোড় নেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। একটি ভুল চাল চালকের নিজের পাশাপাশি অন্যদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
- নিরাপত্তার অভাব:
- জাতীয় সড়কে ছোট ছোট অটোরিকশা বা টোটোগুলোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ওভারটেকিং করার প্রবণতা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে, যা প্রশাসনের নজরে আসা জরুরি।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ভাগা বাজারের মতো জনবহুল এলাকায় যেখানে ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এখানে গতিরোধক বা নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারির প্রয়োজন।
একটি দুর্ঘটনা মানে শুধু কিছু মানুষের আহত হওয়া নয়, এটি একটি গোটা পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া। আজ সোনাবাড়িঘাটের যে পরিবারটি দুর্ঘটনার শিকার হলো, তাদের সেই শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাদের সামান্য সচেতনতা হয়তো এই দিনটি দেখতে দিত না।
আসুন, নিজে সাবধানে গাড়ি চালাই এবং অন্যকেও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করি। শিলচর–আইজল জাতীয় সড়ক যেন আর কোনো পরিবারের কান্নার কারণ না হয়।
বি.দ্র.: আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রশাসন যাতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করে, সেটাই এখন সকলের কাম্য।
শেয়ার করুন: সড়ক সচেতনতা বাড়াতে এবং এই খবরের আপডেট পেতে নিবন্ধটি শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কাউকে সচেতন করতে পারে।
নাম - বদরুল ইসলাম, তারিখ - ১৬-০৪-২০২৬

No comments: