বিজেপির হয়ে প্রচার করাই কি কাল হলো? কালাইনে দেবরের হাতে রক্তাক্ত নারী, এক মাস পরও অধরা ন্যায়বিচার!

বিজেপি করায় দেবরের মারে রক্তাক্ত বৌদি! কালাইন থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 

আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি:- কালাইন নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে আদর্শিক লড়াই যখন ঘরের চৌকাঠে এসে পৌঁছায়, তখন তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইলেন রিনা রায়। কালাইন চতুর্থ খন্ড কুরকুরি এলাকার পিয়ারী মহাজনের বাড়িতে ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক ঘটনা এখন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

১৯-০৪-২০২৬

গত ১৬ই মার্চ, নির্বাচনের প্রচার তুঙ্গে ছিল। কালাইনের বিজেপি প্রার্থী কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের সমর্থনে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছিলেন বিবেক রঞ্জন রায়ের স্ত্রী রিনা রায়। কিন্তু দিনভর প্রচার শেষে বাড়ি ফিরতেই তাঁর ওপর চড়াও হন নিজের দেবর বিষ্ণুপদ রায়।


অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি করার অপরাধে রিনা রায়কে বেধড়ক মারধর শুরু করেন বিষ্ণুপদ। মাটিতে ফেলে লাথি মারা থেকে শুরু করে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া— বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি পাষণ্ড দেবরের মারে রিনা রায়ের হাত পর্যন্ত ভেঙে যায়।

  • ঘটনার দিনই কালাইন থানায় এজাহার দাখিল করা হয়। রিনা রায়ের দাবি:
  • মেডিকেল রিপোর্টে স্পষ্টভাবে 'ফিজিক্যালি অ্যাসল্ট' (শারীরিক নিগ্রহ) উল্লেখ রয়েছে।
  • এক মাস অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি।
  • থানার সেকেন্ড অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শারীরিক নিগ্রহের বিষয়টি মানতেই নারাজ।
  • উল্টে বিচার চাইতে গিয়ে রিনা রায় ও তাঁর স্বামী পুলিশি শাসানির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ।

"আমি কি বিজেপি করেছি এটাই আমার অপরাধ? কেন পুলিশ আজ অভিযুক্তকে আড়াল করছে?" — চোখের জল মুছে এই প্রশ্নই তুলছেন অসহায় রিনা রায়।

রিনা রায় পেশায় একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা। শিলচরের জেল রোডে পথের ধারে বসে সবজি বিক্রি করে কোনোমতে সংসার ও শিশু সন্তানের খরচ চালান তিনি। কিন্তু ভাঙা হাত নিয়ে গত এক মাস ধরে তিনি কর্মহীন। ঘরে মজুত রাখা আলু ও মিষ্টি কুমড়োয় পচন ধরেছে। উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ায় এখন শিশু সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে তাঁর পক্ষে।

বিচারের আশায় রিনা রায় এখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং বিজেপি প্রার্থী কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। যে দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি আজ পঙ্গু ও ঘরবন্দি, সেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কি তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন? নাকি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় বিচারের আশা তিমিরেই থেকে যাবে?

আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং একজন কর্মঠ নারীকে তাঁর প্রাপ্য বিচার ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেবে।

আপনার কি মনে হয়? রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য নারীদের ওপর এই ধরণের হামলা কি মেনে নেওয়া যায়? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

লেখক - বদরুল ইসলাম, তারিখ - ১৯-০৪-২০২৬

No comments:

ইরান আর আমেরিকা : একদিন যুদ্ধবিরতি, পরদিনই আবার লড়াই—আসলে কী চলছে এদের মধ্যে?

ইরান আর আমেরিকা : একদিন যুদ্ধবিরতি, পরদিনই আবার লড়াই—আসলে কী চলছে এদের মধ্যে? আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি : খবরের কাগজ খুললে বা মোবাইলের ...

Powered by Blogger.