শিক্ষা মাফিয়ার চক্রান্ত নাকি নিজেরই ভুল? কেন পুলিশের জালে জড়ালেন কোটি কোটি পড়ুয়ার প্রিয় 'খান স্যার'?
শিক্ষা মাফিয়ার চক্রান্ত নাকি নিজেরই ভুল? কেন পুলিশের জালে জড়ালেন কোটি কোটি পড়ুয়ার প্রিয় 'খান স্যার'?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন রাতে, যখন পাটনার কদমকুয়ান এলাকায় খান স্যারের কোচিং ইনস্টিটিউট 'খান গ্লোবাল স্টাডিজ' (KGS)-এ একদল দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও পাথর নিয়ে ইনস্টিটিউটে ভাঙচুর চালায় এবং সেখানকার একজন নিরাপত্তা রক্ষীকে মারাত্মকভাবে মারধর করে। এই ঘটনার পর খান স্যার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন এবং অভিযোগ করেন যে, কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের মালিকরা হিংসায় এই হামলা করিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ প্রতিদ্বন্দ্বী 'জ্ঞান বিন্দু কোচিং সেন্টারে'র ডিরেক্টর রওশন আনন্দসহ তিনজনকে গ্রেফতারও করে।
ঘটনাটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন পুলিশি তদন্তে জানা যায় যে, হামলার রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খান স্যারের দুই ব্যক্তিগত বডিগার্ড শূন্যে গুলি ছুড়েছিলেন। পুলিশ ওই দুই রক্ষীকে গ্রেফতার করে তাদের রাইফেল বাজেয়াপ্ত করে।
এফআইআর দায়ের হওয়ার পর এবং পুলিশি তদন্ত যখন তাঁর দিকে এগোতে থাকে, তখন গত শনিবার খান স্যার নিজেই তাঁর উকিল ও বডিগার্ডদের সঙ্গে নিয়ে পাটনা সিভিল কোর্টে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা আইনি পথেই এই লড়াই লড়বেন।
![]() |
| সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত |
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত বডিগার্ডরা জানিয়েছেন যে তারা খান স্যারের নির্দেশেই সেই রাতে গুলি চালিয়েছিলেন। এই জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে পাটনা পুলিশ খান স্যারের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder) এবং অস্ত্র আইনের (Arms Act) একাধিক ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। এই খবরটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ঝড় উঠে যায়।
আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাঝেই খান স্যারের কিছু কথিত ক্লাসরুম ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করে। ভিডিওতে তাঁকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বডিগার্ডদের আত্মরক্ষার পদক্ষেপকে সমর্থন করতে শোনা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ''পুলিশ আসতে সময় নিলে বডিগার্ডরা কি ফুল ছুড়ে মারবে, নাকি আরতির থালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে?" এই ভিডিওগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
আইনি ঝামেলার মধ্যেই খান স্যারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিহার ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি একটি আকস্মিক অডিটের পর তাঁর কোচিং ইনস্টিটিউট এবং হেলথ কেয়ার সেন্টারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গুরুতর খামতি (যেমন- ফায়ার অ্যালার্ম না থাকা, জলের ট্যাঙ্কের অপর্যাপ্ত ক্ষমতা) ধরা পড়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই ত্রুটিগুলো সংশোধন না করলে তাঁর প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হতে পারে বলে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
খান স্যারকে নিয়ে এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে:
1. খান স্যারের সমর্থকদের একাংশ (Students & Supporters): লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং অনুগামীরা খান স্যারের সমর্থনে পোস্ট করছেন। তাদের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ শিক্ষা মাফিয়ার ষড়যন্ত্র। অত্যন্ত কম খরচে গরিব পড়ুয়াদের পড়ানোর কারণে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। এক্স (টুইটার)-এ '#SupportKhanSir' এর মতো হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে দেখা গেছে।
2. সমালোচকদের বক্তব্য: অন্য একটি অংশ মনে করছে যে, আইন সবার জন্য সমান। আত্মরক্ষার অধিকার থাকলেও, বডিগার্ডদের আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া (যদি অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেআইনি।
![]() |
| ফাইল ফটো |
বিহার সরকার ও শিক্ষা দফতর জানিয়েছে যে, কোচিং সেন্টারগুলোর এই অভ্যন্তরীণ রেষারেষি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে দ্রুত নতুন নীতিমালা আনা হবে। অন্যদিকে, খান স্যারের আইনি দল এই এফআইআর-কে প্রতিহিংসামূলক দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে পুলিশি তদন্ত ও আদালতের রায়ের দিকেই নজর রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোটি কোটি মানুষের।
সূত্র: দৈনিক ভাস্কর (Dainik Bhaskar) ও হিন্দুস্তান টাইমস (Hindustan Times):


No comments: