আসামের গৃহহীনদের জন্য সুখবর:PMAY ২.০-এর অধীনে আরও ১৬,৮১০টি নতুন বাড়ি অনুমোদন..... !

আসামের গৃহহীনদের জন্য সুখবর: PMAY ২.০-এর অধীনে আরও ১৬,৮১০টি নতুন বাড়ি অনুমোদন, কেন্দ্রের বড় বরাদ্দ!

আমার সোনার কালিগঞ্জ, শ্রীভূমি:-  নিজের একটা পাকা ছাদ, মাথার ওপর একটা নিরাপদ আশ্রয়— এটি প্রতিটি মানুষের জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। 

HIMANTHA BISWA SHARMA
X HANDLE POST  

আসামের হাজার হাজার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। রাজ্যের গৃহহীন পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে আসামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা PMAY 2.0 (Pradhan Mantri Awas Yojana)-এর অধীনে আরও ১৬,৮১০টি নতুন পাকা বাড়ি  অনুমোদন করা হয়েছে।

একই সাথে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এক বিশাল আর্থিক অনুদানও পেয়েছে রাজ্য । মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্বয়ং এই খুশির খবরটি রাজ্যবাসীর সামনে এনেছেন।

AI দিয়ে তৈরি ছবি 

একটি বাড়ি তৈরি করা বা গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন কেবল মুখের কথায় হয় না, এর জন্য প্রয়োজন বিপুল টাকা। আসামের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, এই ১৬,৮১০টি বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রথম কিস্তি বাবদ ২২০.১২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং রাজ্য আবাসন দপ্তরের তহবিলে স্থানান্তরিত করা হবে, যাতে বাড়ি তৈরির কাজ কোনো রকম আর্থিক টানাপোড়েন ছাড়াই দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বরাদ্দের ফলে গ্রামীণ আসামের অর্থনীতিতেও একটি বড় জোয়ার আসবে, কারণ বাড়ি তৈরির জন্য স্থানীয় স্তরে রাজমিস্ত্রি, শ্রমিক এবং নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রথম পর্বের বিপুল সাফল্যের পর, কেন্দ্রীয় সরকার আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনতে 'PMAY ২.০' বা দ্বিতীয় সংস্করণ চালু করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো:

 শতভাগ পাকা বাড়ি: কাঁচা বাড়ি বা ঝুপড়িতে থাকা পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণ পাকা এবং দুর্যোগ-সহনশীল ঘর উপহার দেওয়া।

 নারীর ক্ষমতায়ন:এই যোজনার অধীনে বাড়ির মালিকানা সাধারণত পরিবারের নারী সদস্যের নামে অথবা যৌথ নামে দেওয়া হয়, যা গ্রামীণ নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ায়।

 মৌলিক সুবিধার সংযোজন:শুধু চারটে দেওয়াল আর ছাদ নয়, এই বাড়িগুলোর সাথে শৌচাগার, বিদ্যুৎ সংযোগ (সৌভাগ্য যোজনা) এবং রান্নার গ্যাসের (উজ্জ্বলা যোজনা) সুবিধাও যুক্ত করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে। অর্থাৎ, কোনো ধরনের দুর্নীতি বা স্বজনপোষণ বরদাস্ত করা হবে না। যোগ্য উপভোক্তারা যাতে কোনো দালালের কবলে না পড়ে সরাসরি এই সুবিধা পান, তার জন্য জিও-ট্যাগিং (Geo-tagging) এবং ডিজিটাল ভেরিফিকেশনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

আসাম সরকারের লক্ষ্য হলো, বর্ষা মরশুমের পরপরই বা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই ১৬,৮১০টি বাড়ির নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করে উপভোক্তাদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া।

কারা পাবেন এই সুবিধা?

PMAY ২.০-এর নিয়ম অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণী (EWS) এবং নিম্ন আয়ের (LIG) পরিবারগুলো এই প্রকল্পের মূল সুবিধাভোগী। যাদের নিজস্ব কোনো পাকা বাড়ি নেই এবং যারা কাঁচা বা ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন, তদন্তের পর সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) বা সরাসরি সরকারি অনুদানের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ফলে মাঝারিশাল বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকে না।

আসামের মতো ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং রাজ্যে, যেখানে প্রতি বছর বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়, সেখানে এই ১৬,৮১০টি পাকা বাড়ি গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে দেবে। কেন্দ্রের এই ২২০.১২ কোটি টাকার অনুদান কেবল ঘর তৈরির টাকা নয়, এটি আসামের হাজার হাজার পরিবারের সুরক্ষিত ভবিষ্যতের এক মজবুত ভিত্তি।

সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ আসামের রূপরেখা অনেকটাই বদলে যাবে এবং রাজ্য "সবার জন্য বাসস্থান" নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এ ধরনের খবর পেতে আমার সোনার কালিগঞ্জ ফেসবুক পেজ ইউটিউব চ্যানেলের সাথে যুক্ত হন ও আমাদের ওয়েবসাইটটি ফলো করে রাখুন । ধন্যবাদ। 

সূত্র: হিমন্ত বিশ্ব শর্মার X হ্যান্ডেল থেকে সংগৃহিত। 


No comments:

চোখ কপালে তোলা দৃশ্য: গাড়ি থেকে বের হলো নগদ ৪০ লক্ষ টাকা!

গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার! কমলপুরে আটক ৫ যুবক আমার সোনার কালিগঞ্জ : আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, সাধারণ একটি নাকা চেকিং ...

Powered by Blogger.